০১ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসানে জুলাই আন্দোলন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে- ডা. শফিকুর রহমান

বাসস, ঢাকা
আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬
দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসানে জুলাই আন্দোলন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে- ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করলেও জনগণের প্রত্যাশিত পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে একাধিক সরকার গঠিত ও পরিবর্তিত হলেও জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতা আজ সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারায় জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে এসব কথা বলেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে’ তিনি সংসদে নোটিশ আকারে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এখানে বংশানুক্রমিক শাসনের সুযোগ নেই; জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও জনগণের ভোটাধিকার বহুবার খর্ব হয়েছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সংবিধানের মূল চেতনারও অবক্ষয় ঘটে এবং জনগণের ভোটের মূল্য অনেকাংশে কমে যায়।

শফিকুর রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার এলেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। বিশেষ করে ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের সময় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে দেশে দুঃশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

এ সময়ে বিরোধী মতের মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার শিকার সংসদের অনেক সদস্যও হয়েছেন।

তিনি বলেন, এই সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করে। 

তার দাবি অনুযায়ী, ২৩৫ জন গুম হওয়া ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং ২ হাজার ৬৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, যারা কোনো বিচার পাওয়ার সুযোগ পাননি।

তিনি আরো বলেন, এই দুঃসময়ে বহু মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, নারীরা বিধবা হয়েছেন এবং শিশুরা এতিম হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দলীয় প্রভাব বিস্তার লাভ করে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এর চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে, যেখানে তরুণ-যুবসমাজের নেতৃত্বে সর্বস্তরের মানুষ— কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, এমনকি নারী ও শিশুরাও অংশ নেয়।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে— যেখানে সবার সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।’

তিনি আরো বলেন, সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেছেন, যা ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি কার্যকর, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ